রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন! ‘ছোট বোন’ মমতাকে বার্তা রাজ্যপালের

[ad_1]

রাজ্যে অহেতুক হিংসা বন্ধ করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত

বুধবার সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কার্যত বাংলায় নতুন এক ইতিহাস তৈরি হল। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। সেখানেই মমতাকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে ভোট পরবর্তী হিংসার কথা উঠে আসে ধনখড়ের মুখে। মমতাকে ‘ছোট বোন’ হিসেবে সম্বোধন করেন ধনখড়। তিনি বলেন, ‘‘পর পর তিন বার ক্ষমতায় আসার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। শুভেচ্ছা জানাই। তবে এই মুহূর্তে রাজ্যে অহেতুক হিংসা বন্ধ করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কারণ এর ফলে সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। মুখ্যমন্ত্রীর উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আশা করি, রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেত শীঘ্রই ব্যবস্থা নেবেন তিনি।”

বাংলা একটা কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে

বাংলা একটা কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে রেখেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজ্যপাল ধনখড়। তিনি বলেন, “ভারত ও বাংলা একটা কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে। এই পরিস্থিতিতেও লাগাতার ভোট পরবর্তী হিংসা চলছে। ” এরপরই কটাক্ষের ভঙ্গিতে তিনি বলেন, “আশা করি নতুন সরকার কড়া হাতে দুই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারবে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথগ্রহণের পরই রাজ্যকে বিঁধে রাজ্যপালের এহেন মন্তব্যকে মোটেও ভালভাবে নেননি রাজভবনে উপস্থিত তৃণমূল নেতারা। কার্যত রাজ্যপালের ভূমিকাতে ক্ষুব্ধ তাঁরা।

সৌজন্য বিরোধী আচরণ

সৌজন্য বিরোধী আচরণ

রাজ্যপালের আচরণ অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ বলেই মন্তব্য করলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তাঁর কথা, “আজকে নতুন সরকার তৈরির দিনে এহেন আচরণের থেকে খারাপ আর কিছুই হতে পারে না।” পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, সৌজন্য বিরোধী আচরণ করেছেন ধনখড়। উল্লেখ্য এর আগে একাধিকবার রাজ্যপাল-মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংঘাত দেখেছে বাংলার মানুষ। একাধিক বিষয়ে দুজনের মতানৈক্য দেখা গিয়েছে। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নয়, একাধিকবার তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক, মন্ত্রীর সঙ্গেও টুইট যুদ্ধে জড়িয়েছেন রাজ্যপাল। এই অবস্থাতেই নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করালেন রাজ্যপাল। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানেও কোথাও যেন একটা কাঁটা রয়ে গেল!

উত্তর দিয়েছেন মমতাও

উত্তর দিয়েছেন মমতাও

রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের বক্তব্য শেষ হতেই মাইক নিয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরও দেন তিনি। মমতা বলেন, ‘‘বাংলা অশান্তি পছন্দ করে না। আমি নিজেও করি না। রাজ্যে ভোট চলায় ৩ মাস আমার হাতে ক্ষমতা ছিল না। সকলকে বলব, শান্তি, শৃঙ্খলা এবং সংহতি বজায় রাখুন। ভোটের পর কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটে। আজ থেকে আইনশৃঙ্খলা আমার হাতে। কঠোর হাতে এই অশান্তির মোকাবিলা করব। ফিরে গিয়ে যেখানে যেখানে যাদের পোস্টিং করার করব। অশান্তি করলে আমি কিন্তু কড়া পদক্ষেপ করতে পিছপা হব না। সকলকে বলব, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ করবেন না।”

নবান্নে জরুরি বৈঠক

নবান্নে জরুরি বৈঠক

অন্যদিকে নবান্নে সূত্রের খবর, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক শেষ হলেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সেখানে রাজ্য পুলিশের ডিজি সহ মুখ্য এবং স্বরাষ্ট্রসচিব থাকতে পারেন। থাকতে পারেন পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরাও। বৈঠক শেষে একাধিক পুলিশ পদে রদবদল হতে পারে বলে খবর। কারন ইতিমধ্যে নতুন টিম তৈরির ইঙ্গিত দিয়েছেন মমতা। যেখানে যেখানে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সমস্যা রয়েছে সেখানে পুলিশ প্রশাসনের কিছু রদবদল্করা হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

[ad_2]

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *